নবাবগঞ্জ ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশ ::
আমাদের নিউজপোর্টালে আপনাকে স্বাগতম...
সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে ভালো ফসল ফলানোর লক্ষ্যে কৃষি অফিস থেকে পার্টনার শীপ অনুষ্ঠান র‌্যালি আলোচনা সভা নবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নবাবগঞ্জে ধান কাটার দাম বেশি, দুশ্চিন্তায় কৃষক ঘোড়াঘাটে গৃহ বধুকে জিম্মি করে বাড়ীতে ডাকাতি নগদ টাকা সহ ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট ঘোড়াঘাটে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরি নিজের জ্বালানি থাকতে বিদেশ থেকে আমদানি নয় পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী পার্বতীপুরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন পার্বতীপুরের সাংবাদিক মেনহাজুল ইসলামের চাচা’র জীবনাবসানl নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের বিদায় অনুষ্ঠান নিরাপদ খাদ্য ও পারিবারিক পুষ্টি উন্নয়নে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রয়েল সাইন্স স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পুষ্টি মেলা অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রখর রোদ আর দমবন্ধ করা গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এ অবস্থায় দুর্ভোগ বাড়িয়েছে লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত থাকায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন অতিরিক্ত গরমের ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। দিন-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার জনগণ। উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের এক বৃদ্ধ জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাতে ঘুমাতে পারেন না, বারবার উঠে বসতে হয়। বয়সের ভারে এমন কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কুশদহ ইউনিয়নের এক গৃহিণী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ঘরে ছোট শিশু থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশুরা কান্নাকাটি করে, গরমে অস্থির হয়ে পড়ে। ফ্যান ছাড়া ঘরের ভেতর থাকা যায় না।”ভাদুরিয়া ইউনিয়নের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানান,
“লোডশেডিং এর কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না এবং ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার আশংকা করছেন।”নবাবগঞ্জের সচেতন মহল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায়  কৃষিকাজে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে,বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালানোর সুযোগ থাকলেও ডিজেল ও পেট্রোলের সংকটে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লেদ কারখানা, মোটর গ্যারেজ, দুগ্ধ খামার, মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান,অটো রাইস মিল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সবখানেই অস্থিরতা বিরাজ করছে ।নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যু কেন্দ্র অফিস থেকে জানা যায় যে, পিক আওয়ারে নবাবগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮.৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৩.৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  পর্যায়ক্রমে  লোডশেডিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নবাবগঞ্জে প্রায় ৬০ হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। সমগ্র নবাবগঞ্জ বাসী উপর মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট জনজীবনে আরও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যাগস :

নবাবগঞ্জে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ০৭:২১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
মেহেদী হাসান, নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বৈশাখের শুরুতেই তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা। প্রখর রোদ আর দমবন্ধ করা গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। এ অবস্থায় দুর্ভোগ বাড়িয়েছে লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত থাকায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন অতিরিক্ত গরমের ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঘন ঘন লোডশেডিং জনজীবনকে করে তুলেছে অসহনীয়। দিন-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নবাবগঞ্জ উপজেলার জনগণ। উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের এক বৃদ্ধ জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাতে ঘুমাতে পারেন না, বারবার উঠে বসতে হয়। বয়সের ভারে এমন কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কুশদহ ইউনিয়নের এক গৃহিণী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ঘরে ছোট শিশু থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশুরা কান্নাকাটি করে, গরমে অস্থির হয়ে পড়ে। ফ্যান ছাড়া ঘরের ভেতর থাকা যায় না।”ভাদুরিয়া ইউনিয়নের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানান,
“লোডশেডিং এর কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যাচ্ছে না এবং ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার আশংকা করছেন।”নবাবগঞ্জের সচেতন মহল জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পাওয়ায়  কৃষিকাজে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে,বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালানোর সুযোগ থাকলেও ডিজেল ও পেট্রোলের সংকটে সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লেদ কারখানা, মোটর গ্যারেজ, দুগ্ধ খামার, মিষ্টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান,অটো রাইস মিল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সবখানেই অস্থিরতা বিরাজ করছে ।নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যু কেন্দ্র অফিস থেকে জানা যায় যে, পিক আওয়ারে নবাবগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮.৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৩.৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় লোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়  পর্যায়ক্রমে  লোডশেডিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নবাবগঞ্জে প্রায় ৬০ হাজারের মতো গ্রাহক রয়েছে। সমগ্র নবাবগঞ্জ বাসী উপর মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট জনজীবনে আরও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।